আনন্দ ও বোগদাদ পরিবহনের শ্রমিকের সংঘাত, আহত-১
রায়পুরে দুই পরিবহন শ্রমিকের সংঘাত; মালিক সমিতির হস্তক্ষেপে সমাধান

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

চৌমুহনী -চাঁদপুর আনন্দ সার্ভিস ও রায়পুর-কুমিল্লা ভায়া চাঁদপুর রুটের বোগদাদ পরিবহনের ড্রাইভারদের মারামারিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ঢাকা-রায়পুর মালিক সমিতির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ।

রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর হইতে ছেড়ে আসা আনন্দ পরিবহনের একটি বাস রায়পুর হয়ে চৌমুহনীর উদ্যেশ্যে যাত্রা করে (নির্দ্দিষ্ট সময় সাপেক্ষে) কিন্তু তার ১৫ মিনিট পর চাঁদপুর হইতে একই রুটে রায়পুরের উদ্যেশ্যে বোগদাদ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৭৬৬৫) ছেড়ে আসলে আনন্দ পরিবহনের কালক্ষেপনে একাধিকবার পৃথক পৃথক স্ট্যান্ডে দুটো বাস একত্রিত হয়ে যায়। যেহেতু তাদের বিলম্ব জরিমানা (লেট ফাইন) রয়েছে তাই বোগদাদ পরিবহনের ড্রাইভার জরিমানা থেকে বাঁচতে চেষ্টা চালায় আনন্দ পরিবহনকে ওভারটেক করে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে। কিন্তু আনন্দ পরিবহনের ড্রাইভার সাইড না দেওয়ায় সে কোন ক্রমেই তার সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়পুর এসে উভয় পরিবহনের গাড়ী থামতেই বোগদাদ পরিবহনের যাত্রীদের উপস্থিতিতেই আনন্দ পরিবহনের ড্রাইভার ও তার সহযোগী প্রায় ৮/১০ জন মিলে বোগদাদ পরিবহনের ড্রাইভারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মাথা ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে অন্যান্যদের সহযোগিতায় তাকে চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোগদাদ পরিবহনের একজন নিয়মিত যাত্রী জানান, সারা রাস্তায় আনন্দ পরিবহনের গাদ্দারিতে আমরা অতিষ্ঠ হয়েছিলাম। আর রায়পুর বাসস্ট্যান্ডে এসে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সত্যিই আপত্তিজনক।

এতে বোগদাদ পরিবহন (প্রাঃ) লিমিটেডের রায়পুর শাখা পরিচালক ও ঢাকা- রায়পুর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর হায়দার চৌধুরী রিংকুকে জানালে জরুরী ভিত্তিতে রায়পুর (আনন্দ) মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যান্য নেতাদের একত্রিত করে পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধ করনে আনন্দ পরিবহনের ড্রাইভারকে ডেকে অফিস কক্ষে দু’টি বেত্রাঘাত করে বিষয়টির রফাদফা করে পরবর্তীতে উভয়কে মিলেমিশে রাস্তায় চলার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে বোগদাদ পরিবহনের চালক মোঃ সাদ্দাম হোসেন জানান, আমার আগে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা আনন্দ পরিবহনের গাড়ীটি ওয়ারলেস হইতে আরম্ভ করে সারা রাস্তায় আমাকে তার পিছে পিছে রাখে এবং সে রিক্সাসহ অন্যান্য পরিবহনকে সাইড দিলেও আমাকে সাইড দেননি। একপর্যায়ে আমার গাড়ীর যাত্রীরা সেই ড্রাইভারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন বাজে মন্তব্যও করেন।
কিন্তু, রায়পুর বাস টার্মিনালে আসলে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সেই আনন্দ গাড়ীর ড্রাইভারসহ ৮/১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়, এতে আমার মাথা পেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। আমার গাড়ীর যাত্রীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারেনি।

বোগদাদ পরিবহনের চালক মোঃ সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে আনন্দ পরিবহনের চালকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে বোগদাদ পরিবহন (প্রাঃ) লিমিটেডের রায়পুর শাখা পরিচালক ও ঢাকা-রায়পুর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর হায়দার চৌধুরী রিংকু বলেন, পরিবহনের নিয়ম মোতাবেক বোগদাদ পরিবহনের চালকের অভিযোগের ভিত্তিতে আনন্দ ও বোগদাদ পরিবহনের শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আনন্দ পরিবহনের চালককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় শ্রমিকদের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তী সংঘাত বন্ধ করনে সকলের উপস্থিতিতে তাকে দু’টি বেত্রাঘাত ধার্য্য করা হয় এবং উভয়কেই মিলেমিশে রাস্তায় চলার পরামর্শ প্রদান করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *