কুয়েতে ২৫ হাজার শ্রমিক অনিশ্চয়তায়; দায়ভার কার?

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বিগত ১৫ বছর ধরে কুয়েতে সুনামের সাথে একটি বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘মারাফি কুয়েতিয়া’ পরিচালনা করে আসছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের বর্তমান সাংসদ কাজী মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল। যেই কোম্পানি বিগত ৩ মাস পূর্বেও ভালো পারফরম্যান্স এর জন্য কুয়েতের সি,আই,ডি কর্তৃক ‘গুড কন্ডাক্ট’ সনদ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও ব্রিটিশ সার্টিফিকেশন কর্তৃক ISO 9001;2015 কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট লাভ করেন।

তাঁর এই প্রতিষ্ঠানে অতীতে কখনো কোন প্রকার সমস্যা ছিলনা বা হয় নাই। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যখনই তিনি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে নমিনেশন চাইলেন তখন থেকেই শুরু হয়েছে উনার বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র।

উল্লেখ্য, তিনি সাংসদ টিকেট সংগ্রহের পূর্বেও রায়পুর-লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে খুবই স্বল্প সময়ে যায়গা করে নেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাধারণ জনগনের মনে।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নমিনেশন না পেয়েও জনগনের অনুরোধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নামেন তিনি।
এর এক সপ্তাহের মধ্যেই মহাজোট প্রার্থী তার প্রার্থীতা বাতিল করেন এবং কাজী মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সমর্থন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন।

আর এই এমপি নির্বাচিত হওয়াই তাঁর জন্যে ডেকে আনলো যতো আপদ! একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল ফেলতে থাকে একটি কুচক্রী মহল। অবশেষে কোন যায়গায় সুযোগ কাজে লাগাতে না পেরে আঘাত হানতে থাকলো কুয়েতের কোম্পানিতে। যেখানে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন এবং তার মধ্যে প্রায় ২০ হাজারই বাংলাদেশী।

গত কিছুদিন পূর্বে উনার কোম্পানির কিছু শ্রমিকের মাধ্যমে মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করান। যেই অভিযোগে লেখা ছিল তাদের ঠিকমতো বেতন দেওয়া হয়না এবং তাদের নিকট হইতে নাকি ভিসার মূল্য বেশি নেওয়া হয়েছে। অথচ এই ভিসা সম্বন্ধে কোম্পানির সি,ই,ও এবং এমডি কাজী মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল জানতেনই না। কেননা, ভিসাগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন ট্রাভেলসে পাঠানো হলে তারাই লোকজন ম্যানেজ করে পাঠাতেন। আর একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত পরশু তাঁকে সি,আই,ডি সদর দপ্তর কুয়েত ডেকে পাঠায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য।

আর এনিয়েই তোলপাড় শুরু হয় গণমাধ্যমে। এব্যপারে তাঁর পরিবারের প্রশ্ন হচ্ছে কারো ভুল তথ্যের কারনে যদি কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে ২৫ হাজার শ্রমিকের দায়ভার কে নিবে? যদি সেখানে কোম্পানিই না থাকে তাহলে শ্রমিক থাকবে কিভাবে? অবশ্যই কুয়েত সরকার তাদেরকে নিজ দেশেই ফেরত পাঠাবে। তখন কি আপনারা তাদের পরিবারের ভরনপোষণের দায়িত্ব নেবেন? এমনও হতে পারে এই মিথ্যা ষড়যন্ত্রের কারনে কুয়েত সরকার সকল বাংলাদেশীকেই দেশে ফেরত পাঠাবেন। আর এতে করে কি আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা?

নিউজটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *