নিজের ধর্ষণ শেষে ফুফাতো ভাইকেও নিয়ে আসে ধর্ষণ করাতে!
রায়পুরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ; ধর্ষক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ‘চরপাতা মজিবল হক একাডেমির’ ৭ম শ্রেনির ছাত্রী (১৫) একই বাড়ীর সুমন নামের বখাটে (২২) দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ধর্ষক সুমনকে-তার বাড়ী থেকে আটক করেছেন রায়পুর থানা পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাছিরহাট এলাকায়। অভিযুক্ত সুমন একই এলাকার দিনমজুর মোঃ শাহজাহানের ছেলে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দর্জি দোকানী।

এঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টায় মেয়েটির বাবা দিনমজুর (রিকশাচালক) কামাল হোসেন বাদি হয়ে বখাটে সুমনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মেয়েটির বাবা কামাল হোসেন জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েটিকে বিভিন্নভাবে প্রেম নিবেদন ও কু-প্রস্তাব দিয়ে দিয়ে আসছিল একই বাড়ির শাহজাহানের বখাটে সুমন। একপর্যায়ে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। চলতি মাসের ৩দিন ( সর্বশেষ রোববার রাতে (১১ অক্টোবর) জরুরি কথা আছে বলে কৌশলে মেয়েটিকে তার ঘর থেকে ডেকে পার্শ্ববর্তী সুপারি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে বখাটে সুমন। একপর্যায়ে ধর্ষক সুমন নিজে ধর্ষণ শেষে তার ফুফাতো ভাই রুমনকেও ডেকে নিয়ে আসে মেয়েটিকে ধর্ষণ করতে। তবে রুমন জানায়, সে ধর্ষণ না করে উল্টো সুমনকে গালিগালাজ করে তার বাড়ী চলে যায়। এসময় বাড়ীর অন্যান্য লোকজন ঘটনাটি দেখে সুমন ও মেয়েটিকে ঘটনাস্থলে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ বাড়ীর লোকদেরকে অবহিত করে।

পরদিন সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মেয়ের বাবা ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তিনি সুমনকে গ্রামপুলিশ দিয়ে আটক করে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে বসিয়ে রেখে পরে ছেড়ে দেন। মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া সত্বেও তাকে বিয়ে করার জন্য সুমনসহ তার বাবা-মা কে অনুরোধ করেন ইউপি সদস্যসহ বাড়ীর লোকজন। কিন্তু মেয়েটিকে বিয়ে করা যাবে না বলে অপমান অপদস্ত করে ঘর থেকে বের করে দেয় মেয়ের বাবা রিকশা চালক কামাল হোসেনকে। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশকে অবহিত করলে সুমনকে তার বাড়ী থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে রায়পুর থানা পুলিশ।

এঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ সুমন বলেন, আমি ধর্ষণের সাথে জড়িত না। মেয়েটিকে রুমান নামের ছেলেটি ধর্ষণ করেছে। আমি মেয়েটিকে বিয়ে করবো কেন? মেয়েটিকে মারধর করে আমার নাম বলতে বলায় সে আমার নাম বলেছে।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, কিশোরি মেয়েটির জবানবন্ধি অনুযায়ী ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে মেডিকেল রিপোর্ট ও জবানবন্দির জন্য উভয়কে লক্ষ্মীপুর সদরে পাঠানো হবে। সেই সাথে আটক সুমনকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *