শ্বশুরের লালসার শিকার এক সন্তানের জননী (পূত্রবধূ)
রায়পুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

দিনমজুর স্বামীর ব্যাস্ততার সুযোগে স্ত্রীর উপর কুনজর পড়ে শ্বশুরের! অতঃপর বছর ধরেই চলছিল ধর্ষণ!

গৃহবধূর অভিযোগ: দিনমজুর স্বামী সারাদিন কাজ শেষে রাতে ক্লান্ত শরীরে বাড়ী ফেরেন। এসুযোগে লম্পট শশুরের চোখ পড়ে সুন্দরী পুত্রবধুর দিকে। গত এক বছর ধরে পুত্রের অনুপুস্থিতে নানান লোভ ও নাতিকে হত্যার ভয় দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন লম্পট শশুর। অসহায় পরিবারের সন্তান হওয়ায় হত্যার ভয়ে কারো কাছে বিচার চাইতে পারেনি গৃহবধূ।

সম্প্রতি ইউপি সদস্যসহ এলাকার কয়েকজন মাতব্বর গোপনে বৈঠকে বসলে গৃহবধু তার শশুরের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের বিচার চাইলে তা ভেঙ্গে যায় ও তোলপাড় শুরু হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউপি’র চৌধুরীর পুল সড়কের তালতলা এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গৃহবধু, তার স্বামী, গ্রামপুলিশ নানা ও গ্রামবাসী ধর্ষক আলী আহাম্মদের বিচার দাবি করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ গৃহবধু ও তার স্বামী সাংবাদিকদের জানান, প্রায় দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে এবং সংসারে ৮ মাসের ১টি ছেলে সন্তান রয়েছে। দিনমজুর স্বামী কাজের সুবাধে সারাদিন বাহিরে থাকার পর ক্লান্ত শরীরে রাতে বাড়ী ফেরে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু লম্পট শশুরের কুনজর পড়ে সুন্দরী গৃহবধুর দিকে। গৃহবধু যখন সংসারের কাজ শেষে একা কক্ষে থাকতেন তখন তাকে জড়িয়ে ধরতেন শশুর। কয়েকবার নিষেধ করা শর্তেও তা শুনতেন না! একবার শশুরের এ অনৈতিক কান্ড শাশুড়িও দেখেছিলেন কিন্তু তিনি কিছুই বলতেন না এবং শ্বাশুড়ির নিকট বিচার চেয়েও পেতো না গৃহবধু! উল্টো শিশু বাচ্চাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে গৃহবধুকে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন করে আসছিল শশুর। এঘটনা স্বামীকে জানালে যদি তালাক দেয়, তাই তাকেও বলা হয়নি। একদিন স্বামী সন্ধায় বাড়ী ফিরে দেখেন স্ত্রীর উপর পিতার যৌন নির্যাতন! এতে প্রতিবাদও করেন ছেলে। কিন্তু ক্ষিপ্ত হয়ে সকল সম্পদ থেকে বঞ্চিত সহ হত্যা করার হুমকি দেয় শশুর ও শাশুড়ী। পরবর্তীতে গৃহবধু বাধ্য হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গন্যমান্য কয়েকজনকে জানালে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি বাড়ীতে গোপন সালিশে বসা হয়। এতে ওই গৃহবধু তার উপর নির্যাতনের ঘটনায় শশুর ও শাশুড়ির বিচার দাবি করেন। একপর্যায়ে ধর্ষনের বিচার পুলিশ ছাড়া কোন ব্যাক্তির পক্ষে সম্ভব না বলে বৈঠক ভেঙ্গে দেন ইউপি সদস্য। সাংবাদিক বা পুলিশকে ঘটনাটি যেন না জানানো হয়, সে জন্য জমি ও বিল্ডিং করে দেয়ার লোভ দেখিছিলেন লম্পট শশুর।

লম্পট শ্বশুর আলী আহাম্মদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সাংবাদিকদের নিকট সহায়তা কামনা করেন গৃহবধূ।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, ঘটনাটি শুনেই পরিদর্শনে অফিসারদের পাঠিয়েছি। ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। ভিকটিম অভিযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *